কাগজ প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের গফরগাঁও পাগলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের স্বীকার এক স্কৃলছাত্রী ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তহীনতায় ভূগছে। মামলা তুলে নিতে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি চালাচ্ছে আসামীরা। রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। আসামীদের ভয়ে ওই স্কুলছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা নিয়ে সংশয়ে তাঁর পরিবার। শনিবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এসব অভিযোগ করেন ধর্ষিতার পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ডুবাইল এলাকায় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মানিকের নেতৃত্বে তাদের পরিবারের এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা-মা ও বোন বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে অভিযুক্ত মানিক, আশিক, রানা, মমিন, শরিফুল ও শুভ ওই স্কুলছাত্রীর তরুণীর বাড়িতে যায়। এসময় মানিক ও আশিক ঘরে গিয়ে স্কুলছাত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করে। অপর সঙ্গীয়রা ঘরের বাইরে পাহারা দেয়। রাত সাড়ে দশটার পর তরুণীর বাবা-মা বাড়িতে ফিরে এ ঘটনা শুনতে পান। এরপর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে ওই পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে গত ৭ মার্চ পাগলা থানায় মামলাটি রুজু হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও অন্য আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের হুমকির কারণে ধর্ষণের স্বীকার স্কুলছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছর তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তা এখন অনিশ্চিত। আসামিদের হুমকির ভয়ে পরিবারটি এখন বাড়িছাড়া। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশের চোখে আসামিরা পলাতক হলেও প্রায়শ রাতের বেলায় তারা বাড়ি গিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে, প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকেই বাকি আসামি ও তাদের সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে তাদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, সংবাদ সম্মেলন করতে পরিবারটিকে রাতের আঁধারে গোপনে ময়মনসিংহে আসতে হয়েছে।
অন্যদিকে,
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি পুলিশ অবগত আছে। তবে পলাতক আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ আসামিদের খুঁজছে। সঠিক তথ্য পেলে গ্রেফতার করা হবে।
উল্লেখ্য, মামলার প্রধান আসামি যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মানিক গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ ইসহাকের ভাতিজা এবং পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসমতের ছেলে বলে জানা গেছে।