কাগজ প্রতিবেদক;
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সঠিক নীতি, দুরদর্শী পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে টেকসই, নিরাপদ এবং স্বনির্ভর জ্বালানি ভবিষ্যত গড়ে তোলার গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশবাদীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর এক কনভেনশন সেন্টারে পরিবেশবাদি সংগঠন ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) পরিচালক খায়রুল আলম তুহিন। অন্যচিত্র ফাইন্ডেশনের সভাপতি সেলিনা রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকলেও, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশটি একটি গভীর অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান থেকে জ্বালানি আমদানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রধানত আমদানি নির্ভর দেশের বর্তমান জ্বালানি বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাচ্ছে, এলএনজি, পেট্রোলিয়াম ও এলপিজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯.৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৯.১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, শিল্প, পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। এই নির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বর্তমান সংকট দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।
এতে এলএনজির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা, এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাজেট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।
উচ্চ ব্যয়ের ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকায় বিদ্যুৎ খাতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ভাড়া ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে, ডিজেলচালিত সেচের কারণে ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি পাবে এতে কৃষি খাত এবং গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত এবং রপ্তানি ঝুঁকিতে শিল্প খাতে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়বে। বর্তমান জ্বালানি সংকট আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং একই সঙ্গে একটি সুযোগ। সঠিক নীতি, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই, নিরাপদ এবং স্বনির্ভর জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করেন বক্তারা।
জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন, সৌর প্রকল্প অনুমোদন ত্বরান্বিত করা, সৌর সেচ পাম্প দ্রুত সম্প্রসারণ, পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু, নবায়নযোগ্য খাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, স্বল্প-সুদের তহবিল গঠন, জ্বালানি বাজেটের ৪০% নবায়নযোগ্য খাতে বরাদ্দ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত চালু ও ভর্তুকি সংস্কারের মাধ্যমে পরিবেশবাদিরা সরকারের কাছে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। ##