মাজহারুল ইসলাম
বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আবাহনে ময়মনসিংহে উদযাপিত হলো নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্কের ‘বৈশাখী মঞ্চে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক উৎসব।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ও অতিথিবৃন্দ: ভোরে ভৈরব রাগে বাঁশির সুর ও এসো হে বৈশাখ গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার, সদরের এমপি মহোদয়, জেল পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক।
বক্তব্য ও গুরুত্ব: স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্কের এই বৈশাখী মঞ্চ ময়মনসিংহের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা চাই আমাদের নতুন প্রজন্ম শিকড়মুখী হোক।”
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: বৈশাখী মঞ্চের এই আয়োজনে ছিল নানা বৈচিত্র্য:
সংগীত: স্থানীয় প্রথিতযশা শিল্পীদের কণ্ঠে লোকসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি।
নৃত্য: শিশু-কিশোরদের বর্ণিল দলীয় নৃত্য যা দর্শকদের বিমোহিত করে।
আবৃত্তি: বর্ষবরণ ও দেশপ্রেমের ওপর বিশেষ কবিতা পাঠ।
যাত্রাপালা ও লোকজ প্রদর্শনী: গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া কিছু ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা।
জনসমাগম ও নিরাপত্তা: সকাল থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ভিড় জমায় ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত উৎসবপ্রিয় মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো জয়নুল পার্ক এলাকা। উৎসবটি নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং র্যাব-পুলিশের বিশেষ টহল লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যান্য আকর্ষণ: পার্ক সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত বৈশাখী মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, নাগরদোলা এবং কুটির শিল্পের পসরা বসেছিল। ব্রহ্মপুত্রের শীতল বাতাস আর বৈশাখী মঞ্চের প্রাণবন্ত আয়োজন সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের মানুষের জন্য দিনটি ছিল পরম আনন্দের।
বিকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা ময়মনসিংহের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।