কাগজ প্রতিবেদক;
জুনিয়রদের দিয়ে মোটর সাইকেলের তেল আনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) বাঘমারা ছাত্রাবাসে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের সঠিক ঘটনা তদন্তে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যা ১২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আটককৃত মেডিকেল শিক্ষার্থী নাফিউল ও মীর হামিদুরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জনের নামে একটি হত্যাচেষ্ঠা মামলা দায়ের করেছে গুরুত্বর আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ এর বড় ভাই ডা. আহমদ শফি। মমেক ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ বর্তমানে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইান্সেস এন্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন। হামলায় আহত ৬১ ব্যাচের অপর শিক্ষার্থী মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মমেক ও ছাত্রাবাসশূন্য ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। অপর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এতে বলা হয়- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত অভিযোগের তদন্তের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। উক্ত কমিটিকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর লিখিত আকারে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলো। উভয় বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই অনুমোদন ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) বাঘমারা ছাত্রাবাসে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আটককৃত মেডিকেল শিক্ষার্থী নাফিউল ও মীর হামিদুরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জনের নামে শনিবার রাতে গুরুত্বর আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ এর বড় ভাই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি রেজিষ্টার ডা. আহমদ শফি বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্ঠা মামলা দায়ের করেছে।
জুনিয়র অনুসারীদের দিয়ে মোটর সাইকেলের তেল আনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কেন্টিনে ছাত্রদলের দুই কর্মী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুরের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মীর হামিদুর তার কক্ষে মুয়াজকে ডেকে নিয়ে জুনিয়রদের সামনে চর-থাপ্পর মারেন। এনিয়ে মুয়াজ ক্ষুব্ধ হয়ে রড দিয়ে মীর হামিদুরের মাথায় আঘাত করলে সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় দু’গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে কথা ধস্তাধস্তি ও দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। এসময় মীর হামিদুরের এক অনুসারী নাফিউল ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই মুয়াজকে হাঁতুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুত্বর আহত করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাফিউলকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সহপাঠীরা দুজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুত্বর আহত মুয়াজকে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইান্সেস এন্ড হসপিটালে স্থানান্তর করে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ঘটনার পর ভোর রাতে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা করে সাত দিনের জন্য কলেজের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৬১ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের সদস্য।